মেহেরপুরের গাংনীর এমজিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে মরিয়া একটি কুচক্রী মহল


                                                         ছবি ঃ আমিরুল ইসলাম অল্ডাম

মেহেরপুরের গাংনীর এমজিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে মরিয়া একটি কুচক্রী মহল  

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম ঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়ালগ্রামে প্রতিষ্ঠিত এমজিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এখন একটি কুচক্রী মহলের কারনে  প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি পেতে ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত  মোমিনপুর নামক গ্রামের পার্শ্বে এলাকার শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় গড়ে তোলা হয়েছিল চার গ্রামের আদ্য অক্ষর দিয়ে এমজিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৯ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি স্থাপিত হয়।দীর্ঘদিন পরিচালনা করার পরও মাত্র ১৮৬ ভোটের ছোট্ট গ্রামে প্রতিষ্ঠানটি   শিক্ষার্থী সংকট  ও শিক্ষার মানোন্নয়নে তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষক মন্ডলী, ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে  স্কুলটি মোমিনপুর থেকে ২০১৮ ইং সালে স্থানান্তরিত করে চর গোয়ালগ্রামে স্থাপন করা হয়। নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার পর এমজিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি  এখন  পত্র-পল্লবে পুষ্পিত। প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়টি বর্তমানে  মুখোরিত। সুদক্ষ শিক্ষক ও ম্যানেজমেন্ট থাকায় ৫ বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের  পাঠগ্রহন থেকে শুরু করে শিক্ষার ফলাফলে ক্রমাগত উন্নতি লাভ করেছে।  ইতোমধ্যে শিক্ষা বোর্ডের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিদ্যালয়টির নি¤œ মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিও ভুক্তি হয়েছে। 


                                                        ছবি ঃ আমিরুল ইসলাম অল্ডাম

সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও চর শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে অবগত  হতে গোয়ালগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হুদ কে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,  অনেক আশা নিয়ে আমরা কতিপয়  শিক্ষানুরাগী ও সুদক্ষ -সুযোগ্য শিক্ষকমন্ডলী নিয়ে মোমিনপুর গ্রামে এমজিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। কিন্তু, আশানুরুপ শিক্ষার্থী না পেয়ে প্রায় ১৯ বছর ধরে  শিক্ষা বোর্ডের দেয়া শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়ে আমরা সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্কুলটি ২০১৮ সালে গোয়ালগ্রামে স্থানান্তরিত করি। স্থানা›তরিত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় শিক্ষা অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন সর্বোপরি স্থানীয় সংসদ সদসের সুপারিশ ও অনুমোদন নিয়ে  বিদ্যালয়টি পরিচালনা করা হচ্ছে।বর্তমানে আমাদের বিদ্যালয়ে ১৭ জন যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে।এখানে কোন শুণ্য পদ নাই্।  

                                                         ছবি ঃ আমিরুল ইসলাম অল্ডাম

 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, মোমিনপুরে স্কুল চলাকালীন সময়ের স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা ও ফলাফল তুলে ধরে বলেন, জ্এেসসি পরীক্ষা  ২০১৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র ১২ জন  পাশ করেছিল মাত্র ২ জন। ২০১৫ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ১৬ জন পাশ করেছিল ১৫ জন। ২০১৬ সালে পরীথার্ক্ষী ছিল ১০ জন পাশ করে ১০ জন। ২০১৭ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ১১ জন পাশ করে ১০ জন। ২০১৮ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ জন পাশ করে মাত্র ৪ জন।এসব কারনে বিশেষ করে এমপিও প্রাপ্তির বাধা হয়ে দাড়ায় এই ফলাফল । সেকারনে আমরা বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করি।  বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের  ১ বছরের মধ্যে অর্থ্যাৎ  ২০১৯ সালে জেএসসি পাশ করে ৪৮ জনের মধ্যে ৩৮ জন। এছাড়াও ২০১৯ সালে  এসএসসি পরীক্ষার্থীয় ৪৬ জন ও ২০২০ সালে অটো পাশ করে ৯৬ জন। এই ফলাফলের ভিত্তিতে আমরা এবারে জুনিয়র সেকশনে এমপিও পেয়েছি। এই সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে  আমাদের বিদ্যালয়ের এমপিও বাধাগ্রস্থ করতে  মোমিনপুর গ্রামে পুনরায় একই নাম এমজিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় নাম ব্যবহার করে নতুন ভাবে ভূয়া  স্কুল পরিচালনার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। 

পক্ষান্তরে নতুন সাইনবোর্ড লাগানো মোমিনপুর স্কুল সরেজমিনে পরিদর্শন করে  ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে  ৬ জন, ৭ম শ্রেণিতে ৩ জন , ৮ম শ্রেনিতে ৪ জন  শিক্ষার্থী উপস্থিত দেখা মিললো।কিন্তু রেজিষ্টার খাতা বা হাজিরা খাতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ১৩৯ জন।  কথিত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন  জানান, আমি ্ এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।  আমি ২০১৮ সালে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগপ্্রাপ্ত।অন্যদিকে একই বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক ইমদাদুল হোসেন জানান, রুহুল আমিনের শিক্ষক নিবন্ধন নাই। তাই আমি উক্ত বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রদান শিক্ষক। কথিত প্রদান শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, বিদ্যালয়ে মোট ১৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে সিনিয়র ৯ জন এবং জুনিয়র শিক্ষক ৪ জন।  এসব শিক্ষক ২/১ জন বাদে সকলেই ২০১৮ সালে  অবৈধভাবে (শিক্ষক নিবন্ধন ছাড়াই)অবৈধ  নিয়োগ। এই সময় ৬ জন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও ৭ জন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিল। 


                                                          ছবি ঃ আমিরুল ইসলাম অল্ডাম

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা একবারে কম থাকলেও অফিস রুমে কমপক্ষে ১০০ সেট নতুন বই পড়ে রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে ছাত্র ছাত্রী না থাকলেও ঁ ভূয়া  তথ্য দিয়ে   বেশী বই সংগ্রহ করেছে।  বিষয়টি শিক্ষা অফিসের খোজ নেয়া দরকার ছিল বলে সচেতন  মহলের দাবি। হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে মিথ্যা মামলা করে হয়রানির সামিল। সরেজমিন পরিদর্শন করে অনতিবিলম্বে অবৈধ স্কুলটি বন্ধ করার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা  করেছেন।।    


        

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম


Post a Comment

Previous Post Next Post