মোল্লাহাটে গৃহ বধূকে পৈশাচিক নির্যাতন ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ

গৃহ বধূকে
মিয়া পারভেজ আলম মোল্লাহাট প্রতিনিধি : মোল্লাহাটে অসহায় এক গৃহবধূকে সংসার থেকে বিতাড়িত করতে একধিকবার ভ্রুণ হত্যাসহ পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ জঘণ্য নির্মমতার শিকার গৃহবধূ স’ানীয়দের মাধ্যমে বিচার/মিমাংসার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সুরাহা না পেয়ে অবশেষে থানায় মামলা দায়েরের প্রস’তি নিয়েছেন। গৃহবধূর নাম জেসমিন (২৪), তিনি এ উপজেলার আড়-য়াডিহি গ্রামের মৃত হাসমত আলী শেখের মেয়ে ও পার্শ্ববর্তী চিতলমারী উপজেলার নালুয়া গ্রামের শামসু খন্দকারের ছেলে সাব্বির খন্দকারের স্ত্রী।

ভিকটিম গৃহবধূ  বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব মোল্লাহাটে এসে এ প্রতিবেদকসহ উপসি’ত সাংবাদিকদের জানান-প্রেমের সম্পর্কের সুত্র ধরে প্রায় এক বছর পূর্বে কোর্ট এ্যাফিডেভিট ও রেজিঃ কাবিন মূলে সাব্বিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। অত্যন্ত গরীব পরিবারে আত্নীয়তা করার কারনে সাব্বিরের পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের স্বীকৃতি না দেয়ায় (মেনে না নেয়ায়) পিতার বাড়ীতে থাকতে হয় জেসমিনকে। যে কারনে জেসমিনের পিতার বাড়ীতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন তার স্বামী সাব্বির। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জেসমিন সন্তান সম্ভবা হণ। পরে স’ানীয় গণ্যমান্যরা সালিশ বৈঠক করেন জেসমিনকে তার শশুর বাড়ীতে না নেয়ার বিষয়ে। ওই সময়ে শশুর শামসু খন্দকার বলেন তার পুত্রবধূর গর্ভে কোন সন্তান নেই। যে কারনে পরীক্ষাও করা হয়। গর্ভে সন্তান আছে এ প্রমান মেলায় শশুর শর্ত দেন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু লোক খাওয়াতে পারলে তিনি পুত্রবধূকে বাড়ীতে নিবেন। অসহায় গৃহবধূর পরিবার ধার-দেনা করে অনুষ্ঠান করতে বাধ্য হয়। আর সে অনুযায়ী শশুর তার আত্নীয়-স্বজন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পুত্রবধূ জেসমিনকে বাড়ীতে নেন। বাড়ীতে নেয়ার পর জেসমিনের শশুর, শাশুড়ী, খালা শাশুড়ী ও নানী শাশুড়ীসহ কয়েক আত্নীয় মিলে তাকে অচেতন করে ভ্রুণ (গর্ভের সন্তান) হত্যা করে। এ ছাড়া স্বামী সাব্বিরও কৌশল করে ভ্রুণহত্যা করেছে। এরপর কিছুটা সুস’্য হলে জেসমিনকে বলে সংসার ছেড়ে যেতে। এসকল জঘণ্য ঘটনা সহ্য করেও স্বামীর সংসার করার অদম্য ইচ্ছা প্রকাশ করায় শুরু হয় পৈশাচিক নির্যাতন। জীবন বাচাতে এসে আশ্রয় নেয় পিতার বাড়ী অসহায় মায়ের কাছে। সেখানে গিয়ে ডিভোর্স কপিতে স্বাক্ষর নেয়ার চেস্টায় ব্যার্থ হয়ে ফিরে যায় স্বামী ও শশুর। পরে গত ২৬/০৭/১৮ইং তারিখে ওই বাড়ীতে গিয়ে জেসমিনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে যখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায় স্বামী, শশুর-শাশুড়ীসহ কয়েক ব্যক্তি। ওই ঘটনায় স’ানীয়রা জেসমিনকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস’্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। যেহেতু গরীব সেহেতু স’ানীয়দের মাধ্যমে মিমাংসার আশায় দ্বারে দ্বারে এতদিন ঘুরছেন গৃহবধূ। ব্যর্থ হয়ে অবশেষে থানায় মামলা করার প্রস’তি নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ মোঃ খায়রুল আনাম বলেন-তিনি বিষয়টি শুনেছেন, অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস’া নিবেন।

 

Post a Comment

Previous Post Next Post