মাদক নিয়ন্ত্রণে হার্ডলাইনে সরকার : আতঙ্কে গডফাদাররা

 

দেশত্যাগ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি

Kbdnews/বিশেষ প্রতিনিধি : মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার। শুরু হয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। চলছে বিশেষ অভিযান। প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাচ্ছে একাধিক মাদক ব্যবসায়ী। এমন পরিস্থিতিতে মাদক গডফাদারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে মাদক নির্মূলের বিশেষ অভিযানে র‌্যাব আড়াই হাজারেরও বেশি মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। তবে তারা কেউ গডফাদার নন। তবে গ্রেফতারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে গডফাদারদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ইতোমধ্যে কয়েকজন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। মাদকের গডফাদারদের দেশ ত্যাগ ঠেকাতে দেশের বিমানবন্দরগুলো ও সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে প্রতিনিয়তই মাদকের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেশার ভয়ানক ছোবল ক্রেজি ড্রাগ হিসেবে পরিচিত ছোট্ট আকারের বড়ি ইয়াবার নিয়ন্ত্রণ টেকনাফের ৬০ গডফাদারের। তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে দেশব্যাপী ইয়াবা পাচার ও সরবরাহ। কিন্তু তারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত ৪ মে থেকে তালিকা ধরে সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে র‌্যাব।

অনুসন্ধানে জানা যায় স্থল ও নৌপথে ইয়াবা বেশি পাচার হচ্ছে। দেশের কোথাও না কোথাও প্রতিদিন ইয়াবার বড় বড় চালান ধরা পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিজিবি ওসব চালানের সাথে যাদের গ্রেফতার করছে তারা বহনকারী। কিন্তু নেপথ্যেই থেকে যাচ্ছে ইয়াবা নামক মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত গডফাদাররা। সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় গডফাদারদের গ্রেফতার করাও সম্ভব হচ্ছে না। তবে মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে গডফাদারদের ব্যাপারে সার্বিক তথ্য উঠে আসছে। সূত্র জানায়, মাদক নির্মূলের অভিযানে গত ৪ মে থেকে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানকালে গুলিবিনিময়ে একের পর এক নিহতের ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যে ঐ সংখ্যা দেড় ডজন ছাড়িয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতে খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে হারুন (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী ঝিলের কাদা-পানিতে পড়ে মারা যায়। গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীরা তার লাশ শনাক্ত করে জানিয়েছে- হারুন পালাতে গিয়ে কাদা-পানিতে পড়ে গিয়েছিল। সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার ভোরে যশোরে কথিত বন্দকুযুদ্ধে ডালিম হোসেন (৩৫) নামক এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। যশোর-ছুটিপুর সড়কের সুজলপুর রড ফ্যাক্টরির অদূরে ফাঁকা মাঠে ঐ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, ৪ রাউন্ড গুলি ও ৫শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। দিনাজপুরের বিরলে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বাবু ওরফে গাল কাটা বাবু (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। ঐ ঘটনায় ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ২ নালা একটি পিস্তল, ২টি সামুরাই, ৪টি ককটেল ও ১৯৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত বাবুর নামে মাদক আইনে ৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফেনীর ছাগলনাইয়া পাঠানগড় এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর হোসেন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত ও ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১শ বোতল ফেনসিডিল, একটি অস্ত্র ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে আহত ২ পুলিশ সদস্য এসআই লোকমান হোসেন ও মতিউর রহমানকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েভর্তি করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, ময়মনসিংহে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিল্পব নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। গত শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কতিপয় মাদক বিক্রেতা মাদক ভাগাভাগি করছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নগরীর মাসকান্দা গনশার মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করলে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ হয় মাদক ব্যবসায়ী বিল্পব। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিপ্লবকে মৃত ঘোষণা করেন। ঐ সময় ঘটনাস্থল থেকে তল্লাশি করে ২শ’ গ্রাম হেরোইন, ২শ’ পিস ইয়াবা, ৩টি গুলির খোসা ও দুটি চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ইমন (২২) নামে এক ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মির্জাপুর-বালিয়া-উয়ার্শী সড়কের পুষ্টকামুরী দক্ষিণপাড়া ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় পুলিশের ২ সদস্য আহত হয়েছেন। বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ এলাকায় মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ এক মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত নিহত হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনাস্থল থেকে একটি রামদা, পাইপগান ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাত দলের সাথে ডিবি পুলিশের বন্দুকযুদ্ধের সময় ডিবির এসআই দেলোয়ার হোসেন পিপিএম, কনস্টেবল হাফিজুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম ডাকাতের ছোড়া গুলিতে আহত হন। তাদের বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অতিসম্প্রতি রাজধানীর গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ শীর্ষক এলিট ফোর্স র‌্যাবের দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

 

Post a Comment

Previous Post Next Post