শীতে বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের মানুষ

 


শীতে বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের মানুষ

 

শীতে বিপর্যস্ত রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন। হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বের হয়েও অনেকের মিলছে না কাজ। ঘন কুয়াশা আর বাতাস শীতকে আরও প্রবল করেছে। বিশেষ করে ঢাকায় দিনমজুর-নিম্ন আয়ের মানুষের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। দিনমজুর একদল লোককে জটলা করে বসে থাকতে দেখা যায় মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের সামনে। এখানে তারা প্রায় প্রতিদিনই বসে থাকেন কাজের আশায়। কাজ মিলেও যায়। কিন্তু শীতের কারণে কতদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে। কথা হয় আবুয়াল মিয়ার সঙ্গে, ৬৫ বছর বয়সী এই দিনমজুর বলেন, ‘আইজ দুই দিন ধরি কোনো কাম পাই না। ঘরে খাবার নাই। এই ঠাণ্ডায় মুড়ি খায়া আছি।’ ঢাকা উদ্যানের বস্তিতে আবুয়াল মিয়ার পরিবার নিয়ে থাকেন। বউ ও ছেলে-ছেলের বউ এবং নাতি-নাতনি মিলে ছয় জনের সংসার তার। আবুয়াল মিয়া বলেন, ‘কাইল (গতকাল) আমার বউ বাসাবাড়ির কামে যাইতে দেরি হওয়ায় তার চাকরি চলে গেছে। এখন ছেলে রিকশা চালায়। সেই রোজগারে চলছে তাদের ছয় জনের খাওয়া। চা-বিক্রেতা রায়হান হোসেন বলেন, প্রতিদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত তিন ফ্লাক্স চা বিক্রি হতো কিন্তু কদিন ধরে দুই ফ্লাক্সে নেমেছে আজ (শুক্রবার) এক ফ্লাক্স চা কেবল বিক্রি হয়েছে তিনি গাবতলী থেকে 

কল্যাণপুর শ্যামলী বাসস্ট্যান্ডে চা বিক্রি করেন রায়হান মিয়া বলেন, বেচা-বিক্রি না হলে না খেয়ে থাকতে হবে তিনি বলেন, ‘গরিবের শীত-বৃষ্টি-ঝড় তুফান সব কিছুতেই বিপদ ঘরে বউ-বাচ্চা আছে, বেচা-বিক্রি না হলে ঘরে রান্না হবে না আমরা এমনিতেই ডাল-ভর্তাভাত খাইয়া দিন কাটাই

এলমা বেগম বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ করেন। তিনি বলেন, শীতের কারণে সকালে কামে যাইতে একটু দেরি হওয়ায় অনেক বকাঝকা করেছেন বাড়িয়ালি খালাম্মা। এলমা বলেন, ‘আমাগো ঠাণ্ডা-গরম বলে কিছু নাই। হগল দিন সমানভাবে কামকরণ লাগে। হ্যার বাইরে গেলেই চাকরি থাহে না। বিকালে পিঠা বানায় বিক্রি করি। আইজ কয়দিন থাইক্যা পিঠার বিক্রিও কম। আমাগো অভাবের ভেতর আরও অভাব হইছে। ’        

এদিকে বস্তিতে থাকা মানুষ কাজের আশায় কনকনে শীত উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হলেও মিলছে না কাজ। দিন রাতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। বিকালে শীতের তীব্রতা বেড়ে তা সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকছে। এই শীতের অনুভূতি আরও তীব্র করেছে উত্তরের বায়ু। ঢাকার শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও বস্তিতে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষের বসবাস

আগারগাঁও বস্তিতে কথা হয় সুফিয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি দিনের প্রথম ভাগে বস্তি থেকে একটু দূরে তিন বাসায় কাজ করেন। তার স্বামী রিকশাচালক। তাদের দুই জনের আয়ে তিন শিশু সন্তান নিয়ে পাঁচ জনের সংসার চলে। সংসারে সপ্তাহে এক দিন ডিম, এক দিন ব্রয়লার মুরগি আর এক দিন তেলাপিয়া বা পাঙাশ মাছ খাওয়া হয়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো তারা সবজি এবং ডাল দিয়ে ভাত খান। সকালে যখন সুফিয়া বেগমের সঙ্গে কথা হয়, তখন ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তার স্বামী আজগার আলী। দুপুরে রিকশা চালাতে বের হবেন। তিনি জানালেন, আয় না হলেও খাবার খরচ বাড়ছে। তীব্র শীতের কারণে তাদের অসহায়ত্ব বেড়েছে বলে জানান আজগর আলী

 

Post a Comment

Previous Post Next Post