৫ জানুয়ারি বসছে নতুন বছরের প্রথম অধিবেশন

                                                      রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

স্টাফরিপোটার :

আগামী ৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গতকাল সোমবার এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটা হবে আসছে ইংরেজি নতুন বছর ২০২৩ সালের প্রথম অধিবেশন। বছরের প্রথম অধিবেশনকে শীতকালীন অধিবেশনও বলা হয়ে থাকে।কয়েকটি কারণে আসন্ন এই অধিবেশনটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, সংবিধান অনুযায়ী নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই হতে যাচ্ছে তার সংসদ অধিবেশনে দেওয়া শেষ ভাষণ। কারণ, আগামী বছরের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংসদ অধিবেশনে তার শেষ ভাষণের কারণে আসন্ন অধিবেশনটিতে অন্যরকম আবেগ কাজ করছে।প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন আবদুল হামিদ। সংবিধান অনুযায়ী, আবদুল হামিদের আবারও রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধানের ৫০(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘একাধিক্রমে হউক না হউক—দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না’।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল হামিদ যখন বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন, সেই অধিবেশনটি হবে বিএনপিহীন। বিএনপিদলীয় সাত জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ছয় জন (একটি সংরক্ষিত আসনসহ) গত ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেছেন। তাদের পদত্যাগে শূন্য হওয়া পাঁচটি আসনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে বলে রবিবার তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।সংসদ সদস্য পদত্যাগী বিএনপি নেতারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৬ আসনের জি এম সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং সংরক্ষিত আসনের ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বিএনপির অন্য সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩) বিদেশে থাকায় তিনি ই-মেইলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তবে সই স্ক্যান করে বসানোর কারণে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। বিদেশ থেকে ফিরে নতুন করে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন হারুন। ইসি জানিয়েছে, পাঁচটি আসনে উপনির্বাচনের পর শূন্য হওয়া সংরক্ষিত আসনের তপশিল ঘোষণা করা হবে।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল হামিদ যখন সংসদে শেষ ভাষণ রাখবেন, তখন শুধু বিএনপির পদত্যাগী এমপিদের আসনগুলো শূন্যই থাকবে না; সংসদে তখন উপস্থিত থাকবেন নিজেদের কলহে পুড়তে থাকা সাংবিধানিক বিরোধীদল জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপিরা। মধ্যখানে সপ্তাহখানেক বাদ দিয়ে টানা এক বছর ব্যাংককে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা বিরোধীদলীয় নেতা ও জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ এদিন সংসদে যাবেন। উপস্থিত থাকবেন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদেরও, চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে যার ওপর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলবত রয়েছে। দলটির ২৬ জন এমপির মধ্যে প্রায় সবাই আসন্ন অধিবেশনে যোগ দিলেও রওশন ও জি এম কাদেরের নেতৃত্বে দলটিতে গড়ে ওঠা দুটি পৃথক বলয়ের কারণে দুই পক্ষের এমপিদের মধ্যে বিরাজ করছে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বিষয়টিও এখন পর্যন্ত অমীমাংসিত। দল থেকে বহিষ্কৃত মসিউর রহমান রাঙ্গাকে বাদ দিয়ে দলের কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ করার জন্য জাপার পক্ষ থেকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গত অধিবেশন চলাকালে চিঠি দেওয়া হলেও সেটির এখনো সুরাহা হয়নি। এরই মধ্যে রাঙ্গা অবস্থান নিয়েছেন রওশনের পক্ষে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেওয়ার পর শুক্র ও শনিবার দুই দিন বিরতি দিয়ে ৮ জানুয়ারি রবিবার সংসদের বৈঠক বসবে। ঐদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনবেন সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী)। আসন্ন অধিবেশনের পুরো সময় ঐ ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।

 

 

 


Post a Comment

Previous Post Next Post