করোনায় ঘরবন্দি জীবনে বেড়েছে মানসিক রোগী

করোনায়

স্টাফ রিপোর্টার :  করোনায় ঘরবন্দি জীবনে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মানসিক রোগীর সংখ্যা। সরকারি হিসেবে, পাবনা মানসিক হাসপাতাল ও ঢাকার জাতীয় মানসিক ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে মহামারীর আগের তুলনায় এখন মাসে প্রায় ৮শ’ থেকে ১ হাজার রোগী বেশি আসছে। চিকিৎসকরা বলছেন, চাকরি হারানো, ব্যবসায় ধস কিংবা প্রিয়জনের মৃত্যুর সময় কাছে থাকতে না পারার বেদনা থেকে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন।

রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিত্র এটি। বহির্বিভাগে থাকা পাঁচটি রুমের সামনেই মানসিক রোগী কিংবা রোগীর স্বজনদের ভিড়।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানালেন, করোনাকালে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসেন ৪ হাজার ৭৪৭ রোগী। অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৭০ এ। একই অবস্থা পাবনা মানসিক হাসপাতালেরও।

চিকিৎসকরা জানান, করোনাকালে জীবিকা হারিয়েছেন অনেকেই। সেই সঙ্গে সংক্রমিত প্রিয়জনের পাশে থাকতে না পারা কিংবা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন অনেকে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মোস্তফা মিলন বলেন, ‘এরকম দু-একজন রোগী আমরা পেয়েছি যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছিল পরে আর ওই বিষয় থেকে বের হতে পারেনি। অনেকের আত্মীয়-স্বজন, বাবা-মা করোনায় মারা গেছেন, কিন্তু দাফন-কাফন করতে যেতে পারেনি। এর ফলে নিজেদের মধ্যে অপরাধ বোধ সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে তারা বিষণ্ন্নতায় চলে গেছে।’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহানা পারভীন বলেন, ‘কারো আর্থিক সমস্যা, কেউ আবার জব হারিয়েছে। অন্যদিকে কেউ করোনা আক্রান্ত হলে কি হবে সেটা একটা আতঙ্ক। আবার কেউ প্যানিক ডিসঅর্ডার নিয়ে এসেছেন। আবার অনেকেই আছেন যারা প্রবাস থেকে চাকরি হারিয়ে এসেছেন এবং পরবর্তীতে তাদের ফিরে যাওয়া নিয়ে চিন্তা তৈরি হয়েছে।’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনার কারণে যেমন নতুন রোগী বেড়েছে তেমনি পুরান রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে।’

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারীতে পরিবর্তিত জীবনে অভ্যস্ত হওয়া কঠিন। তাই মানসিক সুস্থতা অটুট রাখার চেষ্টা করতে হবে সবাইকে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘করোনাকালে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে আমাকে এভাবে যে করোনা আক্রান্ত হলেই যে খারপ কিছু হয়ে যাবে এমন কিছু না।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যেহেতু বৈশ্বিক এই মহামারী থেকে সহসাই এই বিশ্ব মুক্তি পাচ্ছে না, সেহেতু এ নিয়ে খুব বেশি আতঙ্কিত বা ভয় না পেয়ে সকলকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি শতভাগ মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। আর এটি করতে পারলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেড়ে যাবে মানসিক শক্তি।

 

Post a Comment

Previous Post Next Post