জালে ধরা পড়েনি ইলিশ জেলে মহাজনদের মাথায় হাত

ইলিশ

শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে মেহেদী হাসান :    ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে গিয়ে অনেকেই ফিরেছেন ইলিশ শূন্য ট্রলার নিয়ে। প্রথম ট্রিপে প্রত্যেক মহাজনকে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা করে লোকসান গুণতে হয়েছে। আবার দ্বিতীয় ট্রিপের প্রস্তুতি নিতেই শুরু হয় নিম্নচাপ। বৈরী আবহাওয়ায় সমস্ত ফিশিং ট্রলার অবস্থান করছে উপকূলে।
সাগরে ইলিশ না পাওয়ার ব্যাপারে জেলে-মহাজনদের অভিযোগ এবং যে যুক্তি, তা হলো বাংলাদেশের নিষিদ্ধ সময়ে ভারতে মাছ ধরা অব্যাহত থাকে।

এসময় ভারতের জেলেরা এদেশের জলসীমায় ঢুকে অবাধে ইলিশ শিকার করে নিয়ে যায়।

এ কারণে অবরোধ শেষ হলেও বাংলাদেশ সীমানা ইলিশ শূন্য হয়ে পড়ে। তাদের দাবি উভয় দেশ একই সময়ে অবরোধ দিলে এককভাবে কোনো দেশ ইলিশ সংকটে পড়বে না। গত সোমবার দুপুরে রায়েন্দা-রাজৈর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত ফিশিং ট্রলার নোঙর করে আছে। বাজারঘাট করে সাগরে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছেন জেলেরা। সাগর উত্তাল তাই ট্রলারেই অলস সময় পার করছেন তারা। রায়েন্দা বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী এফবি আরিফুল ইসলাম ট্রলারের মালিক আলামীন ঘরামী জানান, অবরোধ শেষে দাদন ও ধারদেনা করে দুই লাখ টাকা খরচ করে ট্রলার পাঠিয়ে ছিলেন সাগরে। মাত্র ৫শ ইলিশ নিয়ে ট্রলার ঘাটে ফেরার পর ওই মাছ বিক্রি করেছেন এক লাখ ২০ হাজার টাকায়। প্রথম চালানেই তার ৮০ হাজার টাকা লোকসান। তাই টাকার অভাবে দ্বিতীয়বার ট্রলার সাগরে পাঠাতে পারবেন না বলে হতাশা ব্যক্ত করেন। এফবি সাগর-১ ট্রলারের মালিক বিলাশ রায় কালু জানান, তার সোয়া দুই লাখ টাকা খরচ হয় প্রথম ট্রিপে। মাছ পেয়েছেন ৩শ। বিক্রিতে নেমেছে মাত্র ৮০ হাজার টাকা। তার লোকসান হয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা। ইউনুচ হাওলাদারের এফবি মাছরাঙ্গা ট্রলারে দুই লাখ টাকা খরচ করে মাছ বিক্রিতে নেমেছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। খাদা গ্রামের রহমান মৃধার খরচ হয় দুই লাখ। তার জালে মোটেই ইলিশ ধরা দেয়নি। কিছু অন্য সামুদ্রিক মাছ নিয়ে ট্রলার ঘাটে ফেরার পর বিক্রি করেছেন মাত্র ৩০ হাজার টাকায়।

শরণখোলা মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি দেলোয়ার ফরাজী জানান, তার এফবি রূপসা ট্রলারে খরচ হয় দুই লাখ টাকা। কিন্তু গোন শেষে সামান্য কিছু ইলিশ ও বাজে মাছ নিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসে জেলেরা। সেই মাছ বিক্রি করেছেন মাত্র ৬০ হাজার টাকায়।

প্রথম গোনে (ট্রিপে) তার মতো সব মহাজনেরই লোকসান হয়েছে। জাতীয় মৎস্য সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখা ও বাগেরহাট জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, প্রথম গোনে আমার এফবি মুন্না-১ ও এফবি জিসান-১ নামের দুটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে খরচ হয় সাড়ে চার লাখ টাকা। দুটি ট্রলারে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ মিলিয়ে বিক্রি হয়েছে দুই লাখ ৭৮ হাজার টাকা। আমার লোকসান গুণতে হয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার টাকা। অনেকে তো টাকার অভাবে সাগরে যেতেই পারবে না। তার ওপর দ্বিতীয় ট্রিপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই সাগরে নিম্নচাপ দেখা দেয়। সাগরে প্রচ- ঢেউ হচ্ছে।

এ অবস্থা শরণখোলা উপজেলা থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণকারী প্রায় ৬শ ফিশিং ট্রলার বিভিন্ন ছোট ছোট নদী-খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন থাকলে দ্বিতীয় ট্রিপেও চরম লোকসানে পড়তে হবে। বর্তমানে জেলে-মহাজনরা দাদন ও ধারের টাকা কিভাবে শোধ করবেন সেই চিন্তায় রয়েছেন।

মৎস্যজীবী নেতা আবুল হোসেন বলেন, ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে প্রচুর ইলিশ পাওয়ার কথা। কিন্তু সাগর একেবারেই ইলিশ শূন্য হয়ে পড়েছে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, আমাদের জলসীমায় ঢুকে ভারতের জেলেদের অবাধে মাছ শিকার। তাই দুই দেশে একই সময় অবরোধ দিলে আমাদের এই সংকটে পড়তে হতো না। এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডক্টর খালেদ কনক মৎস্যজীবীদের যুক্তিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ, ভারত এবং থাইল্যান্ডের নীতি নির্ধারকরা বসে একই সময়ে ইলিশের অবরোধের সময় নির্ধারণ করলে এককভাবে কোনো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

ইলিশ

 

 

 

 

Post a Comment

Previous Post Next Post